Logo
উভয় জগত

ইসলামে সাংবাদিকতার নীতিমালা: বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্য প্রকাশই ইবাদত

রড

রাইটার্স ডেস্ক

2026-05-01


ইসলামে সাংবাদিকতার নীতিমালা: বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্য প্রকাশই ইবাদত

ছবি: এ আই

বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় সংবাদ মাধ্যমকে ‘কালের দর্পণ’ বা ‘গণমানুষের কণ্ঠ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। আধুনিক যুগে মুদ্রণজগৎ, সম্প্রচার মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংবাদ পরিবেশন একটি অপরিহার্য পেশা হলেও এতে কুপ্রবৃত্তির প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকে। তবে ইসলামে সাংবাদিকতাকে কেবল একটি পেশা নয়, বরং মানবকল্যাণে নিয়োজিত এক মহান ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ইসলামের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, মনের কুপ্রবৃত্তির ঊর্ধ্বে থেকে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পৌঁছে দেওয়াই একজন আদর্শ সাংবাদিকের প্রধান কর্তব্য।


ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি দুটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রথমত, বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভুল সংবাদ পরিবেশন করা এবং দ্বিতীয়ত, মিথ্যা ও অসত্য তথ্যের মাধ্যমে অপপ্রচার রোধ করা। এই নীতি অনুসরণ করে সাংবাদিকতা করলে তা আল্লাহর পথে আহ্বান বা দাওয়াতের মর্যাদা পায়। ইসলামে সাংবাদিকতাকে একটি পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সংবাদে নিজ স্বার্থ বা দলীয় মতাদর্শের প্রতিফলন ঘটানো কিংবা কাটছাঁট করা ইসলামি আদর্শের পরিপন্থী। পবিত্র কুরআনের সূরা আহজাবের ৭০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “হে ঈমানদাররা! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।” অর্থাৎ সংবাদের ভাষা হবে সত্য, নির্ভুল ও গাম্ভীর্যপূর্ণ।


সংবাদের সত্যতা যাচাই বা ‘ফ্যাক্ট চেকিং’ ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো তথ্য বা সংবাদ পাওয়ার পর তা যাচাই না করে প্রচার করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সূরা হুজরাতের ৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, যদি কোনো পাপাচারী কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে, যাতে অজ্ঞতাবশত কারো ক্ষতি না হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, যা শোনা যায় যাচাই না করে তা-ই প্রচার করা একজন মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট। এছাড়া মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া বা মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করাকে ইসলামে কবিরা গুনাহ বা মহাপাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নিরপেক্ষতা ও সাহসিকতা সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান শর্ত, যা ইসলামেও সুপ্রতিষ্ঠিত। ধর্ম, বর্ণ বা জাতি নির্বিচারে সবার জন্য সংবাদ পরিবেশন করতে হবে এবং এখানে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে অন্যায্য প্রাধান্য দেওয়ার সুযোগ নেই। আদর্শ সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো কোনো শক্তির কাছে মাথা নত না করে আপসহীনভাবে সত্য প্রকাশ করা। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য উচ্চারণ করা সর্বোত্তম জিহাদ। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা হলো, সত্য যতই তিক্ত হোক, তা প্রকাশ করতে হবে


পরিশেষে বলা যায়, ইসলামের দেওয়া এসব নৈতিক ও ব্যবহারিক নীতিমালা মেনে সাংবাদিকতা করলে তা যেমন সমাজের কল্যাণ বয়ে আনে, তেমনি সংবাদকর্মীর জন্য পরকালীন সওয়াবের মাধ্যম হয়ে ওঠে। গুজব মুক্ত সমাজ গঠন ও জনস্বার্থ রক্ষায় ইসলামি সাংবাদিকতার এই মূলনীতিগুলো বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এই প্রতিবেদনটি কুরআন-সুন্নাহর উদ্ধৃতি ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

ন/উ


পঠিত: 9 বার