Logo
মেঠোপথ

ঈদের বাকি মাত্র কয়েকদিন: নবাবগঞ্জে দা-বঁটি ও চাপাতি তৈরিতে ব্যস্ত কর্মকারেরা 

রড

রাইটার্স ডেস্ক

19/5/2026, 10:50


ঈদের বাকি মাত্র কয়েকদিন: নবাবগঞ্জে দা-বঁটি ও চাপাতি তৈরিতে ব্যস্ত কর্মকারেরা 

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কামারপাড়াগুলোতে এখন কারিগরদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। দিনরাত কয়লার ধোঁয়া, গনগনে লাল লোহা আর হাতুড়ি পেটানোর ‘টুং টাং’ শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন কামারশালা। নাওয়া-খাওয়া ভুলে পশু জবাই ও মাংস কাটার প্রধান হাতিয়ার দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি তৈরিতে দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের। একদিকে যেমন চলছে নতুন সরঞ্জাম তৈরির কাজ, অন্যদিকে পুরোনো হাতিয়ারে শান দেওয়ারও ধুম পড়েছে।

স্থানীয় কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোহার মান ও ওজনের ওপর ভিত্তি করে সরঞ্জাম তৈরি ও শান দেওয়ার মজুরি নির্ধারণ করা হচ্ছে। বাজারে এখন ছোট ছুরি তৈরিতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, বঁটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, চাপাতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং পশু জবাইয়ের বড় ছুরি তৈরিতে ৭০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি নেওয়া হচ্ছে। 

এছাড়া পুরোনো দা-ছুরিতে শান দিতে খরচ হচ্ছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা। বছরের অন্য সময়ে দৈনিক আয় ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা হলেও, কোরবানির ঈদের আগে কামারদের দৈনিক আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়।

উপজেলার বাগমারা বাজার এলাকার কারিগর তপন রাজবংশী জানান, পৈতৃক সূত্রে তারা এই কাজ করে আসছেন। বাজারে এখন সবকিছুই রেডিমেড পাওয়া গেলেও পাকা লোহার সরঞ্জামের কোনো বিকল্প নেই। সারা বছর তেমন রুজি না থাকলেও এই ঈদের মৌসুমের আয় দিয়ে তারা সংসারের বড় খরচের ঘাটতি মেটান। 

তবে বর্তমানে কয়লার দাম বাড়ায় এবার তৈরি খরচ কিছুটা বেড়েছে। চাহিদা বেশি থাকায় ক্রেতাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে অর্ডার নিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কামারশালায় আসা ক্রেতা মো. শফিক বলেন, "বিদেশি জিনিস যত ভালোই হোক, আমাদের দেশের পাকা লোহার জিনিসের মতো টেকসই হয় না। তাই পুরোনো চাপাতিগুলো ধার দিতে কামারশালায় আসছি।" 

আরেক ক্রেতা সাইদুল ইসলাম জানান, শেষ মুহূর্তের এই ব্যস্ততা ও ভিড় মূলত কোরবানির ঈদের আনন্দেরই একটি অংশ। 

উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের আগের দিন পর্যন্ত কামারদের এই ব্যস্ততা অবিরত থাকবে।



তথ্য ও ছবি

শেখ সাফুয়ান শামস্

নবাবগঞ্জ, ঢাকা।

ন/উ


পঠিত: 19 বার