Logo
মেঠোপথ

রাঙামাটিতে স্কুলের অনিয়ম ফাঁস করায় নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর ও উচ্ছেদের হুমকি

রড

রাইটার্স ডেস্ক

23/5/2026, 12:42


রাঙামাটিতে স্কুলের অনিয়ম ফাঁস করায় নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর ও উচ্ছেদের হুমকি

ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটির সাজেক ইউনিয়নের ছয়নালছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা ও অব্যবস্থাপনার চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটর। স্কুলের অনিয়ম নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করায় তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং পরিবারসহ গ্রাম থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৬ মে (শনিবার) বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ছয়নালছড়া পাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে বর্তমানে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী ওই আদিবাসী নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নাম রি জাং সি চাকমা। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ছয়নালছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মাত্র একজন প্রধান শিক্ষক ও একজন অস্থায়ী শিক্ষক দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অনিয়ম, শিক্ষকদের অবহেলা ও দুর্নীতির নানা বিষয় নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেন রিজাংসি।

ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে ক্ষিপ্ত হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তরুণীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা মারধর ও উচ্ছেদের সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীরণ চাকমা।

তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও একজনকে প্রত্যাহার এবং অন্যজনকে বদলি করায় সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে বাধ্য হয়ে একজন শিক্ষক ও আমাকে দিয়েই বিদ্যালয়টি চালাতে হচ্ছে। আমি স্কুলের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছি। রিজাংসি ফেসবুকে কেবল ভিউ পাওয়ার উদ্দেশ্যে এমন মনগড়া কনটেন্ট বানিয়েছেন।”

এই বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ঘটনাটি তদন্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষ দ্রুতই যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।

ইউএনও আরও জানান, বিদ্যালয়টি বর্তমানে প্রশাসনের মনিটরিং কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে এবং ভুক্তভোগী তরুণী চাইলে নিজের সুরক্ষায় যেকোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন।

এদিকে সাধারণ স্থানীয় বাসিন্দারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং নারী অধিকার কর্মীকে হেনস্তাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। সংবাদটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের তথ্যের ভিত্তিতে

প্রস্তুত করা হয়েছে।


পঠিত: 40 বার