Logo
রাষ্ট্র ও নীতি

‘আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার’: সোহেল রানার নতুন দাবি

রড

রাইটার্স ডেস্ক

1/6/2026, 1:21


‘আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার’: সোহেল রানার নতুন দাবি

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

সোমবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারক মাসরুর সালেকীন। একই সঙ্গে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালতে হাজির করার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ঘটনার বিষয়ে নতুন দাবি উত্থাপন করেন।

তিনি বলেন, এই ঘটনার জন্য তিনি একা দায়ী নন এবং তার স্ত্রী সম্পূর্ণ নির্দোষ। একই সঙ্গে তিনি ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে বলেন, "আমি একা দোষী না, আমার স্ত্রীর দোষ নেই। সব দোষ ডলারের। আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার।

ডলার দুই লাখ টাকা দিছে।" তবে আসামির এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ আদালতে উপস্থাপিত হয়নি এবং এ সময় সে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

অন্যদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দাখিল করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সোহেল রানার বিরুদ্ধে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতা করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

মামলার এজাহার ও নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

ঘটনার পর সে আত্মগোপনে চলে গেলেও পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই ঘটনায় অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করে পুলিশ।

পুলিশের তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়, যেখানে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। আদালত এই অভিযোগপত্র গ্রহণের পর মামলাটি আনুষ্ঠানিক বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করেন।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংগঠন দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তারা প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, তবে চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত থাকবে।

স/উ


পঠিত: 8 বার