Logo
মেঠোপথ

বর্ষার আগেই নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত নবাবগঞ্জের কারিগররা

রড

রাইটার্স ডেস্ক

2/6/2026, 5:34


বর্ষার আগেই নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত নবাবগঞ্জের কারিগররা

ছবি: এ আই

বর্ষা আসার আগেই ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে। উপজেলার নিচু এলাকার বাসিন্দাদের বর্ষাকালে যোগাযোগের একমাত্র ভরসা নৌকা। ফলে জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই দম ফেলার ফুরসত নেই স্থানীয় কারিগর ও কাঠ ব্যবসায়ীদের। নতুন নৌকা তৈরির পাশাপাশি পুরোনো নৌকা মেরামতের কাজেও ব্যস্ততা বেড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষার পানি বাড়লেই নবাবগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর, বারুয়াখালী ও শিকারীপুরের পদ্মা তীরবর্তী এলাকা সবার আগে প্লাবিত হয়। এ ছাড়া ইছামতী নদীর তীরবর্তী কলাকোপা, বক্সনগর ও নয়নশ্রী ইউনিয়নের আংশিক এলাকাও পানিতে ডুবে যায়। ফলে এসব অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে নৌকার বিকল্প থাকে না।

শুরগঞ্জ এলাকার ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. জাকির বলেন, ‘এমনিতে আমরা ফার্নিচারের কাজ করে থাকি। তবে বর্ষা মৌসুমে চাহিদা বেশি থাকায় কোষা নৌকা তৈরি করি, এতে বাড়তি আয় হয়। এই সময়ে কারিগরেরা ভীষণ ব্যস্ত থাকেন। আমার এখানে একেকজন কারিগর দিনে একটা করে নৌকা তৈরি করছেন। দুই-একটা খুচরা বিক্রি ছাড়া বাকি সব নৌকা মুন্সিগঞ্জের শিবরামপুর হাটে পাঠানো হয়। প্রতি বৃহস্পতিবার ওই হাটে সব নৌকা বিক্রি হয়ে যায়।’

উপজেলার বারুয়াখালী, জয়কৃষ্ণপুর ও শিকারীপুর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, কারিগররা দিন-রাত নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত। মাঝি, জেলে ও কৃষকেরা ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই পুরোনো নৌকা মেরামত করে নিচ্ছেন।

বারুয়াখালীর কুঠরি বেড়িবাঁধ এলাকায় নৌকা কিনতে আসা জেলে নিতাই রাজবংশী বলেন, ‘প্রতিবছর বন্যার আগে আগে নৌকা কিনতে হয় বা আগের নৌকা মেরামত করা লাগে। এইবার নতুন একটা নৌকা কিনতে আইছি। কিন্তু গতবারের চাইতে ১-২ হাজার টাকা বেশি মনে হচ্ছে। গত বছর যে নৌকা ৪ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এবার সেটির দাম চাওয়া হচ্ছে ৫-৭ হাজার টাকা।’

নৌকার কারিগর অনন্ত মিস্ত্রি জানান, প্রতিটি নৌকা তৈরিতে তিনি ১ হাজার ২০০ টাকা মজুরি পান। আকারভেদে একেকটি নৌকা ৫ থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তবে বাজারে ছোট আকারের ‘কোষা’ নৌকার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে কলাকোপা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুলাল মোদক জানান, রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন ও আগের মতো বন্যা না হওয়ায় এখন নৌকার চাহিদা কিছুটা কমেছে। তবে নিচু এলাকার মানুষ বর্ষার আগেই নৌকা কিনে রাখছেন। কারণ পুরোদমে বর্ষা শুরু হলে নৌকার দাম আরও বেড়ে যায়।

নবাবগঞ্জের বাহ্রার স্থানীয় ৮০ ঊর্ধ্ব বাসিন্দা ইউসুফ আলী স্মৃতিকাতর হয়ে বলেন, ‘একসময় ইছামতী নদীতে বন্ধুরা মিলে নৌকা চালাতাম। কিন্তু রাস্তাঘাট ও সেতুর উন্নয়নের ফলে এখন নৌকার ওপর নির্ভরশীলতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। অনেক খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাঝিরাও এখন অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।’

তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় নৌকার ব্যবহার কমলেও, নবাবগঞ্জের প্লাবিত অঞ্চলের মানুষের কাছে ঐতিহ্যবাহী এই বাহনটি এখনো বর্ষাকালের অপরিহার্য সঙ্গী।


তথ্য ও ছিবি

শেখ সাফুয়ান শাম্স

নবাবগঞ্জ


ন/উ


পঠিত: 16 বার