Logo
ভূ-মণ্ডল

গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নে নতুন টানাপোড়েন, ভিন্ন অবস্থানে ঢাকা-দিল্লি

রড

রাইটার্স ডেস্ক

16/5/2026, 10:35


গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নে নতুন টানাপোড়েন, ভিন্ন অবস্থানে ঢাকা-দিল্লি

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। চুক্তিটি নবায়ন হবে, নাকি নতুন কোনো কাঠামোতে দুই দেশ আবারও সমঝোতায় পৌঁছাবে—তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই দেশের কারিগরি পর্যায়ে ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে আলোচনায় নতুন করে জটিলতা তৈরি করেছে ভারতের সম্ভাব্য নতুন পানি বণ্টন প্রস্তাব। ভারত ফারাক্কা পয়েন্টে পানির প্রবাহকে ভিত্তি ধরে হিসাব করতে চাইলেও বাংলাদেশ পুরো গঙ্গা অববাহিকার পানিপ্রবাহ বিবেচনায় নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।

পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে সরকার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে। দুই দেশের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনা শেষে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলেও জানান তিনি।

১৯৯৬ সালের চুক্তি অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে দুই দেশ সমান হারে পানি পাবে। প্রবাহ ৭০ থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের মধ্যে থাকলে বাংলাদেশ পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং বাকি অংশ পাবে ভারত। আর প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক, অবশিষ্ট পানি যাবে বাংলাদেশে।

সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর মধ্যে পানি অন্যতম। গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে যৌথ নদী কমিশন যথাসময়ে আলোচনা করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ মনে করেন, ১৯৯৬ সালের পুরোনো ফর্মুলা বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকর নাও হতে পারে। তিনি সাম্প্রতিক সময়ের পানিপ্রবাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে নতুন কাঠামো তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, উজানে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের কারণে ফারাক্কা এলাকায় পানির প্রবাহ কমে গেছে। তাই শুধুমাত্র ওই পয়েন্টকে ভিত্তি করে পানি ভাগাভাগি করা হলে তা বাংলাদেশের জন্য ন্যায্য হবে না।

দীর্ঘদিন ধরেই ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। বাংলাদেশের দাবি, এ বাঁধের কারণে পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ কমে গিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ, কৃষি ও জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গঙ্গা চুক্তির ভবিষ্যৎ শুধু পানি বণ্টনের প্রশ্ন নয়; এটি বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক আস্থা, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।


পঠিত: 21 বার