
রাইটার্স ডেস্ক
17/5/2026, 11:25

ছবি: সংগৃহীত
নাকবা দিবসের ৭৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল লন্ডনে আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশ ও মিছিলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। ফিলিস্তিনপন্থি কয়েকটি সংগঠনের জোট ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইন’-এর উদ্যোগে শনিবার (১৬ মে) এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচি চলাকালীন একই সময়ে কট্টর ডানপন্থি অ্যাক্টিভিস্ট টমি রবিনসনের নেতৃত্বে পৃথক একটি পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়।
নজিরবিহীন এই গণ-নিরাপত্তা অভিযান সফল করতে মেট্রোপলিটন পুলিশ ৪ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ দুটি মিছিলের জন্য আলাদা রুট নির্ধারণ করে দেয়। যার ফলে কেনসিংটন থেকে পল মল পর্যন্ত ফিলিস্তিনি পতাকা ও কেফিয়্যাহ জড়ানো বিশাল জনতার মাঝে কট্টর ডানপন্থি ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’-এর বিক্ষোভকারীদের খুব একটা দেখা যায়নি। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে উভয় পক্ষের ৩১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
সমাবেশে বক্তব্য দেন স্বতন্ত্র এমপি জেরেমি করবিন ও ডায়ান অ্যাবট এবং লেবার পার্টির এমপি জন ম্যাকডোনেল। ম্যাকডোনেল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা চলমান থাকা অবস্থায় লন্ডনের রাজপথে কট্টর ডানপন্থিদের বর্ণবাদী মিছিল ঠেকাতে এবং ইসরাইলের ওপর কার্যকর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এই মিছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” গাজা থেকে আসা শরণার্থী অধিকারকর্মী হালা হানিনা বলেন, “গাজা আজ ধ্বংসস্তূপ, প্রতিদিন আমাদের স্বজনরা মরছে। নাকবা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।”
এবারের কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা রুখতে পুলিশকে কোনো অপরাধের সন্দেহ ছাড়াই তল্লাশি করার অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।
এছাড়া লন্ডনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো গণ-নিরাপত্তা কার্যক্রমে ‘লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন’ (মুখাবয়ব শনাক্তকরণ) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। একই দিনে উত্তর লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যকার এফএ কাপ ফাইনাল ম্যাচ থাকায় পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হয়।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা’ স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিদের ইহুদিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের উসকানিদাতা হিসেবে উল্লেখ করে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর আয়োজিত প্রথম বড় এই মিছিলে আয়োজকরা অংশগ্রহণকারীদের কোনো ধরনের উসকানিমূলক বাকবিতণ্ডায় না জড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ ফিলিস্তিনি ও আরবরা এক যৌথ বিবৃতিতে দেশের মাটিতে ইসলামোফোবিয়া (ইসলামভীতি) মোকাবিলায় সরকারের উদাসীনতার সমালোচনা করে সমঅধিকার ও নিরাপত্তার দাবি জানান। সংবাদটি লন্ডনের স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
স/উ
পঠিত: 21 বার